Monday, May 8, 2017

সকাল-সন্ধ্যার দোয়া


(১)    আয়াতুল কুরসী (১ বার)। (সূরা বাক্বারার, আয়াত; ২৫৫)
(২)    ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ (৩ বার(। ক্বুল আউ-যু বিরব্বিল ফালাক্ব (৩ বার(।
 ক্বুল আউযু বিরব্বিন্না-স (৩বার)।
لا إله إلا الله وَحْدَهُ لا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ .
(৩)  লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া
আলা-কুল্লি শাইয়িং ক্বদীর। (১ বার, ১০ বার বা ১০০ বার( ।

অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং যাবতীয় প্রশংসার অধিকারীও তিনি, তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান”।
سُبْحَانَ اللهِ وَ َبِحَمْدِهِ
(৪) সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবিহামদিহি। (১০০ বার)
অর্থ: “প্রশংসা সহকারে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি”।
بِسْمِ اللهِ الَّذِىْ لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْئٌ فِى الأَرْضِ وَ لاَ فِى السَّمَاءِ وَ هُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ .
(৫) বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা-য়াযুররু মা‘আসমিহী শাইউং ফিল আরযি ওয়ালা-ফিস্ সামা-য়ি ওয়াহুওয়াস্ সামীউল
আলীম। (৩ বার)
অর্থ: “শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আসমান এবং যমীনের কোন বস্তুই কোন ক্ষতি করতে পারবে না, তিনি মহাশ্রোতা, মহাজ্ঞানী”।
أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ ما خَلَقَ .
(৬) আ’ঊ-যু বিকালিমা-তিল্লাহিত্ তা-মমা-তি মিং শাররি মা-খলাক্ব। (৩ বার)

অর্থ: “আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে”।
رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا وَّ  بِالإِسْلاَمِ دِيْنًا وَّ بِمُحَمَّدٍ نَّبِيًّا وَّ رَسُوْلا .
(৭) রযীতু বিল্লা-হি রব্বা-, ওয়াবিল ইসলা-মি দী-না- ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যাও ওয়া রসূলা- (৩ বার)।

অর্থ: “আমি সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছি আল্লাহকে প্রভূ হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) নবী ও রসূল হিসেবে”।
حَسْبِىَ اللهُ لا إِلهَ إِلا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَ هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ .
(৮) হাসবিয়াল্লা-হু লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুওয়া রব্বুল আরশিল আযীম। (৭ বার)

অর্থ: “আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, তাঁর প্রতি ভরসা করেছি, তিনি মহান আরশের অধিপতি”।
أصْبَحْنَا عَلى فِطْرَةِ الإِسْلامِ وَ عَلى كَلِمَةِ الإِخْلاصِ وَ عَلى دِيْنِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَّ عَلى مِلَّةِ أَبِيْنَا إِبْرَاهِيْمَ حَنِيْفًا مُّسْلِمًا
وَّ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ .
(৯) আসবাহনা-‘আলা-ফিৎরতিল্ ইসলা-ম, ওয়া ‘আলা-কালিমাতিল ইখলা-সি, ওয়া ‘আলা-দীনি নাবিইয়িনা-মুহাম্মাদ,
ওয়া ‘আলা-মিল্লাতি আবীনা- ইবর-হীমা হানী-ফাম্ মুসলিমা-ওয়ামা-কা-না মিনাল্ মুশরিকীন।

অর্থ: “সকাল করেছি ইসলামের ফিৎরাতের উপর, একনিষ্ঠ বাণীর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর দ্বীনের
উপর এবং আমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর মিল্লাতের উপর তিনি একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের
অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।”
সন্ধ্যার সময় বলবে : আমসাইনা-আলা-ফিৎরাতিল্ ইসলা-ম, শেষ পর্যন্ত।
أَصْبَحْنَا وَ أَصْبَحَ الْمُلْكُ للهِ وَ الْحَمْدُ للهِ لا إِلهَ إِلا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيْكَ لَه لَه ُالْمُلْكُ وَ لَه الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ .
رَبِّ أَسْأَ لُكَ خَيْرَ مَا فَىْ هذَا الْيَوْمِ وَ خَيْرَ مَا بَعْدَهُ ، وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِىْ هذَا الْيَوْمِ وَ شَرِّ مَا بَعْدَه ، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ
الْكَسَلِ وَ سُوْءِ الْكِبَرِ ، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِى النَّارِ ، وَ عَذَابٍ فِى الْقَبْرِ .
(১০)  আসবাহনা- ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লা-হ, ওয়াল হামদু লিল্লা-হ, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহ্,
লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িং ক্বদীর, রব্বি আস্ আলুকা খইরা মা- ফি- হাযাল য়াউমি ওয়া খইরা মা বা’দাহু, ওয়া আঊযু বিকা মিং শাররি মা-ফি- হাযাল য়াউমি ওয়া মিন শাররি মা- বা’দাহু, রব্বি আঊযু বিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূ-ইল কিবারি, রব্বি আঊযু বিকা মিন আযাবিং ফিন্না-র, ওয়া আযাবিং ফিল ক্বব্র।

অর্থ: “আমরা সকাল করেছি এমন অবস্থায় যে, রাজত্ব একক ভাবে আল্লাহর জন্য, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই অধিকারে এবং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে প্রভু! আজকের দিন এবং পরবর্তী দিনের মঙ্গল তোমার কাছে প্রার্থনা করছি, এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার কাছে আজকের দিন এবং পরবর্তী দিনের অমঙ্গল থেকে। হে প্রভু!ূ আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার কাছে অলসতা থেকে এবং অধিক বয়সের অনিষ্টতা থেকে। হে প্রভু! আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার কাছে দোযখের শাস্তি এবং ক্ববরের আযাব থকে।
সন্ধ্যার সময় বলবে: আমসাইনা- ওয়া আমসাল মুলকু......... রব্বি আস্ আলুকা খইরা মা- ফি- হাযিহিল লাইলাতি ওয়া খইরা মা- বা’দাহা, ওয়া আঊযু বিকা মিং শাররি মা-ফি- হাযিল লাইলাতি ওয়া শাররি মা- বা’দাহা.........শেষ পর্যন্ত।
بِكَ أَصْبَحْنَا وَ بِكَ أَمْسَيْنَا وَ بِكَ نَحْيَا وَ بِكَ نَمُوْتُ وَ إِلَيْكَ النُّشُوْرُ . اَللّهُمَّ
(১১) আল্লা-হুম্মা বিকা আসবাহনা-ওয়া বিকা আমসাইনা-ওয়া বিকা নাহ্য়া ওয়া বিকা নামূতু ওয়া ইলাইকান নুশূর।

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার হুকুমে সকালে উপনীত হলাম এবং তোমার হুকুমে সন্ধ্যা উপনীত হলাম । তোমারাই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি এবং তোমারাই হুকুমে আমরা মৃত্যুবরণ করব। আর তোমার সমীপেই আমরা পুনরুত্থিত হব।
সন্ধার সময় বলবে: অল্লা-হুম্মা বিকা আমসাইনা- ওয়া বিকা আসবাহনা- ওয়া ........ শেষ পর্যন্ত।
اَللّهُمَّ إنِّيْ أصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلاَئِكَتَكَ وَجَمِيْعَ خَلْقِكَ بِأنَّكَ أنْتَ اللهُ لا إله إلا أنتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ وَأنَّ محمداً عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ.
 (১২) আল্লাহুম্মা ইন্নী আসবাহতু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা আরশিকা, ওয়া মালা-ইকাতাকা ওয়া জামীআ-খলক্বিকা, বি’আন্নাকা আনতাল্লা-হু, লা-ইলা-হা, ইল্লা- আংতা,ওয়াহদাকা লা- শারীকা লাক, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুকা ওয়া রসূলুক। আবদুকা ওয়া রাসূলুকা। (১ , ২ , ৩ বা ৪ বার)

     অর্থ: হে প্রভু! নিশ্চয় আমি প্রভাত করেছি, আমি তোমাকে, তোমার আরশ বহণকারীগণকে, তোমার ফেরেস্তাগণকে ও
তোমার সকল সৃষ্টজীবকে সাক্ষী রাখছি যে, তুমিই একমাত্র আল্লাহ, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই। তুমি একক, তোমার কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমার বান্দা ও রসূল।
সন্ধ্যার সময় বলবে: আল্লাহুম্মা ইন্নী আমসাইতু  (বাকী অংশ পুরোটা(
 اَللّهُمَّ ما أصْبَحَ بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أوْ بِأحَدٍ مِّنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ.

(১৩) আল্লাহুম্মা মাÑআসবাহা বী মিন নি’মাতিন আও বি আহাদিম মিন খলক্বিকা ফামিনকা ওয়াহদাকা লা-শারীকা লাক্,
 ফালাকাল হামদু ওয়া লাকাশ শুকরু।
 অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সাথে যে নেয়ামত সকালে উপনিত হয়েছে বা তোমার সৃষ্টি জগতের কারো সাথে, তা সবই একক ভাবে তোমার পক্ষ থেকে তোমার কোন শরীক নেই। সুতরাং কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা মাত্রই তোমার জন।্য
সন্ধ্যার সময় বলবেঃ আল্লাহুম্ম মা-আমসা বী মিন নি’মাতিন (বাকী অংশ পুরাটা(
ياَ حَيُّ ياَ قَيُّومُ بِكَ أسْتَغِيْثُ فَأصْلِحْ لِيْ شَأنِيْ وَلاَ تَكِلْنِيْ إلَى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ.
(১৪) ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ূমু বিকা আসতাগীছ্, ফা আসলিহ লী শা’নী ওয়ালা তাকিলনী ইলা-নাফসী ত্বরফাতা আইন।

অর্থ: হে চিরঞ্জিব, চিরস্থায়ী! তোমার কাছে আমি সাহায্য প্রর্থনা করছি, সুতরাং আমার সকল অবস্থা সংশোধন করে
দাও এবং এক পলকের জন্য হলেও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিও না।
اَللّهُمَّ عاَفِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اللهمَّ عاَفِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اللهمَّ عاَفِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ لا إله إلا أنْتَ
(১৫) আল্লাহুম্মা আ’ফেনী ফী বাদানী, আল্লাহুম্মা আ’ফেনী ফী সাময়ী, আল্লাহুম্মা আ’ফেনী ফী বাছারী, লা-ইলা-হা ইল্লা-আন্তা।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ,আমার শরীরে ,কর্ণে ও চোখে নিরাপত্তা দান কর। তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন ইলাহ নেই। (৩ বার(
اَللّهُمَّ إنِّيْ أعُوذُ بِكَ مِنَ الكُفْرِ والْفَقْرِ وأعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لا إله إلا أنتَ
 (১৬) আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল কুফ্রী ওয়াল ফাক্বরি ওয়া আঊযুবিকা মিন আযাবিল কবরী, লা-ইলা-হা ইলআন্তা-।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুফুরী ও দারিদ্রতা থেকে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি ক্ববরের
আযাব থেকে। তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন ইলাহ নেই। (৩ বার)
اَللّهُمَّ إنِّيْ أسأَلُكَ العاَفِيةَ فِيْ الدُّنْياَ والآخِرَةِ، اللهمَّ إنِّيْ أسأَلُكَ العَفْوَ والعاَفِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ ودُنْيَايَ وَأهْلِيْ وماَلِيْ
اللهمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ وآمِنْ رَوْعاَتِيْ ، اللهمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَيْنَ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِيْ ، وَعَنْ يَمِيْنِيْ ، وعَنْ شِماَلِيْ ، وَمِنْ فَوْقِيْ
، وَأعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أنْ اُغْتاَلَ مِنْ تَحْتِيْ
(১৭) আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্ আলুকাল আ-ফিয়াতা ফিদ্ দু›ইয়া ওয়াল আ-খিরাহ,আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্ আলুকাল্ আফওয়া
ওয়াল্ আ-ফিয়াতা ফী দীনী ওয়া দু›ইয়া ইয়া, ওয়া আহলী ওয়া মা-লী,আল্লা-হুম্মাস্ তুর আওরা-তী ওয়া  আ-মিন রওআ-তী,আল্লাাহুম্মাহ্ ফাযনী মিম্ বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খলফী, ওয়া আন ইয়ামীনী, ওয়া আন শিমা-লী, ওয়া মিন ফাওক্বী, ওয়া আঊযু বি আযামাতিকা আন উগতালা মিন তাহ্তী

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা কামনা করছি। হে আল্লাহ! আমি প্রার্থনা করছি তামার কাছে ক্ষমার এবং আমার দ্বীন , দুনিয়া, পরিবার-পরিজন এবং স¤পদের নিরাপত্তা। হে আল্লাহ আমার গোপন বিষয় সমূহকে ঢেকে রাখ এবং আমাকে ভয়-ভীতি থেকে নিরাপত্তা দান কর । হে আল্লাহ তুমি আমাকে হেফাযত কর আমার সম্মুখ থেকে, পিছন থেকে, ডান দিক থেকে, বাম দিক থেকে এবং উপর দিক থেকে। আর আমি ধ্বসের অতল গহববে নিমজ্জিত হওয়া থেকে তোমার মহাত্ম্যর অসীলায় পরিত্রান চাচছি।
اَللّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأرْضِ، عاَلِمَ الغَيْبِ وَالشَّهاَدَةِ، ربَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، اَشْهَدُ أنْ لاإله إلا أنْتَ، أعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ
نَفْسِيْ، وَشَرِّ الشَّيْطاَنِ وَشِرْكِهِ، وأنْ أقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوْءً، أوْ أجُرُّهُ إلَى مُسْلِمٍ.
(১৮) আল্লা-হুম্মা ফা-তিরাস্ সামা-ওয়াতি ওয়াল্ আরযি,আ-লিমাল্ গাইবি ওয়াশ্ শাহা-দাহ, রব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালীকাহ্।
আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লা আনতা,আঊযু বিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়া শাররিশ শাইত্বনি ওয়া র্শিকিহ্।  ওয়া আন আক্ব তারিফা আলা- নাফসী সূআন্ আও আর্জুরুহু ইলা- মুসলিম।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আসমান-যমীনের সৃষ্টি কর্তা, তুমি গোপন-প্রকাশ্য সবকিছুই জান। তুমি সকল বস্তুর প্রভূ  এবং সব কিছুর মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া প্রকৃত কোন মাবুদ নেই। আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে এবং শয়তান ও তার শিরকের অনিষ্ট থেকে এবং আশ্রয় কামনা করছি নিজের
উপর অন্যায় করা থেকে বা সে অন্যায় কোন মুসলিমের উপর চাপিয়ে দেয়া থেকে।
اَللّهُمَّ إنَّيْ أسْأَلُكَ عِلْماً ناَفِعاً، وَرِزْقاً طَيِّباً، وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً
     (১৯) আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইল্মানা-ফিআ- ওয়া রিয্ কান ত্বইয়িবা ওয়া আমালান মুতা ক্বাব্বালা-।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি উপকারী বিদ্যা, পবিত্র জীবিকা এবং মাক্ববূল (গ্রহণীয়)
আমলের।
    اَللّهُمَّ أنْتَ رَبِّيْ لا إله إلا أنتَ، خَلَقْتَنِيْ وَأناَ عَبْدُكَ، وأناَ على عَهْدِكَ، وَوَعْدِكَ ماَ اسْتَطَعْتُ، أعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ
ماصَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ بِذَنْبِيْ، فاَغْفِرْ لِيْ فَإنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إلاَّ أنْتَ
    ( ২০) আল্লাহুম্মা অংতা রব্বী লা-ইলা-হা ইল্লা- আন্তা, খলাক্ব তানী, ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা- আহ্দিকা, ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্ব’তু, আঊযুবিকা মিন শাররি মা সনা’তু,আবূউ লাকা বি নি’মাতিকা আ’লাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী,ফাগ্ফিরলী ফাইন্নাহু লা- য়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আংতা।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু-প্রতিপালক, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন ইলাহ নেই, তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো এবং আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যানুসারে তোমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর কায়েম রয়েছি। আমার কৃত কর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করছি, আমার প্রতি তোমার নেয়ামত স্বীকার করছি এবং তোমার দরবারে আমার পাপকর্মেরও স্বীকারোক্তি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমায় ক্ষমা কর, কেননা তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।
اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى محمدٍ وَعَلَى آلِ مُحمدٍ كَماَ صَلَّيْتَ على إبْراَهِيْمَ وَ على آلِ إبراهيمَ إنَّكَ حَميدٌ مجيدٌ
(২১) আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিঁও ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদ, কামা- সল্লাইতা আলা- ইবরা-হীমা ওয়া আলা-
আ-লি ইবরা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজী।দ- (দশ বার(

অর্থ: হে আল্লাহ!  তুমি রহমত নাযিল কর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবার বর্গের উপর,
    যেমন তুমি রহমত নাযিল করেছো ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর পরিবার বর্গের উপর, নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও
সম্মানিত।

রসূল (সা.) নুরের তৈরি না মাটির?

ইয়াহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র ক্রমানন্বয়ে মুসলামানেদের ঈমান আক্বীদার উপর চরম ভাবে আঘাত হানছে । এরা  মুসলমানদের ঈমান-আমল ধ্বংসের পেছনে নিজের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করতে কুন্ঠবোধ করেনা। তাদের এ ষড়যন্ত্রে তারা যে সফল, তার প্রমাণ হচ্ছে তারা মাজারপন্থী ও বিদআতীদের নিজেদের বসে নিয়ে এসেছে। যে বাংলাদেশ- ৯৫% মানুষ মুসলমান, এমন একটি দেশে মাজারপন্থী ও বিদআতীদের সাহস দেখে আক্কেল গুড়–ম হয়ে যায়। এরা মিলাদুন্নবীর মিছিলে স্লোাগান দেয় “আমাদের নবী নূরের তৈরি” । এ ব্যাপারে কোরআন সুস্পষ্ট সমাধান দিয়েছে যে, নবী মাটির তৈরি নূরের তৈরি নন এবং আহলে সুন্নত ওয়ালজামাআতের আক্বীদাও এটাই। তাদের এ ঔদ্ধত্য দেখে কি কারো বুঝতে বাঁকি থাকে যে, মাজারপন্থী ও বিদআতীরা (নামধারী সুন্নী মুসলমান) কাদের দালাল?     ইয়াহুদী-নাসারারা এদের দিয়ে সুকৌশলে প্রকৃত ঈমানদারদের ঈমান হরণ করাচ্ছে। তাই প্রতিটি মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব হলো, এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো এবং আহলে সুন্নত ওয়ালজামাআতের বিশুদ্ধ আক্বীদা-বিশ্বাস সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া। যেন সাধরণ মুসলমান যারা দ্বীন-ধর্মের গভীর জ্ঞান রাখেনা তারা যেন ইসলামের সঠিক আক্বীদা নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পারে ।
মূল আলোচনায় যাবার পূর্বে‘নূর’ শব্দের অর্থ ও এর ব্যবহার আমাদের জেনে নেওয়া দরকার যাতে আলোচনা ভাল ভাবে বোধগম্য হয়। নূর শব্দের অর্থ এবং এর ব্যবহার ‘নূর’ একটি আরবী শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে  আলো।এর বিপরীত শদ্ব হচ্ছে ‘যুলমত’ অর্থ হচ্ছে অন্ধকার । আরবী ভাষায়  ‘নূর’ শব্দটি আসল অর্থ হচ্ছে ‘দৃশ্যমান নূর বা আলো’ আর এর রূপক অর্থ হচ্ছে ‘অদৃশ্য নূর বা আলো’ তথা জ্ঞানের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। অনুরূপ ভাবে ‘যুলমত’ শব্দটির আসল অর্থ হচ্ছে  ‘দৃশ্য আন্ধকার, আর এর রূপক অর্থ হচ্ছে ‘অদৃশ্য অন্ধকার’ তথা মূর্খতা,জুলুম  ইত্যাদি অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফে ‘নূর’ শব্দটি উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
 উদাহরণ স্বরূপ পবিত্র কুরআন মাজীদের কিছু আয়াত ও কিছু  হাদীস শরীফ নি¤েœ দেয়া হলো যেখানে  ‘নূর’ শব্দটি দৃশ্যমান নূরের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। 
مثلهم كمثل الذي استوقد نارا فلما أضاءت ما حوله ذهب الله بنورهم وتركهم في ظلمات لا يبصرون(১৭)
অর্থ,তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির  মত, যে ব্যক্তি কোথাও আগুন জ্বালালো  এবং তার চার দিককার  সবকিছু যখন আগুন পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে; তারা কিছুই দেখতে পায়না। (সূরা- বাক্বারাহ;১৭)
هو الذي جعل الشمس ضياء والقمر نورا وقدره منازل لتعلموا عدد السنين والحساب (৫)
অর্থ, তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছের সূর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে ¯িœগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে, এবং নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মানজিলসমুহ যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। (সূরা-ইউনুস; ৫)
 উল্লেখিত উভয় আয়াতে ‘নূর’ শব্দটি দৃশ্যমান নূর বা আলোর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।


হাদীস শরীফে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেনঃ
خلقت الملائكة من نور وخلق الجان من مارجٍ من نار وخلق آدم مما وصف لكم

ফেরেশতা নূরের সৃষ্টি, জিন অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি। আর আদম যা দ্বার সৃষ্টি তা তোমাদেরকে ( কুরআন মাজীদে) বলা হয়েছে অর্থাৎ মাটির তৈরি। (মুসলিম শরীফ)
অন্য এক হাদীসে নবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেনঃ
وان أم رسول الله صلى الله عليه و سلم رأت حين وضعته نورا أضاءت منه قصور الشام
 রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম)-এর মাতা তাঁকে প্রসবকালে এক নূর অবলোকন করেন, যার দ্বার সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ উদ্ভাসিত হয়ে যায়। (মুসনাদে আহমদ)
 উল্লেখিত উভয় হাদীস শরীফে ‘নূর’ বলতে বাহ্যিক বা দৃশ্যমান নূরকে বুঝানো হয়েছে।
এবার দৃষ্টান্ত স্বরূপ পবিত্র কুরআন মাজীদ থেকে কিছু আয়াত ও কিছু  হাদীস শরীফ নি¤েœ দেয়া হচ্ছে যেখানে  ‘নূর’ শব্দটি অদৃশ্য নূরের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

الله ولي الذين آمنوا يخرجهم من الظلمات إلى النور والذين كفروا أولياؤهم الطاغوت يخرجونهم من النور إلى الظلمات
অর্থ, আল্লাহ ঈমানদারদেও অভিভাবক। তাদের তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফুরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত।তারা তারেদকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। (সূর-বক্বারা;২৫৭)  উক্ত আয়াতে নূর ও যুলমাত তথা আলো ও অন্ধকার উভয় শব্দ অদৃশ্য আলো ও অন্ধকারের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।কেননা এখানে আলো বলতে ঈমানে আলো আর বলতে কুফুরির অন্ধকার বুঝানো হয়েছে।
فآمنوا بالله ورسوله والنور الذي أنزلنا والله بما تعملون خبير-৮
অর্থ,অতএব তোমরা আল্লাহ তাঁর রসূল এবং অবতীর্ণ নূরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। (সূরা- আত-তাগাবুন;৮) উক্ত আয়াতে নূর বলতে কুরআন মাজীদকে বুঝানো হয়েছে, যা হচ্ছে অদৃশ্য নূর।
كتاب الله فيه الهدى و النور من استمسك به و أخذ به كان على الهدى و من أخطأه ضل
অর্থ, এটি আল্লাহ পাকের কিতাব, এতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর। যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে এবং সে মোতাবেক আমল করবে, সে হেদায়েতে উপর থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআনকে আঁকড়ে ধরলোনা সে পথ ভ্রষ্ট। (মুসলিম)
إن الله خلق خلقه في ظلمة ، وألقى عليهم من نوره ، فمن أصابه من ذلك النور اهتدى ، ومن أخطأ ضل ،
অর্থ, মহান আল্লাাহ পাক কিছু মাখলুক( প্রবৃত্তি ইত্যাদির) আঁধারে সৃষ্টি করলেন। এরপর আল্লাহ পাক তাদের উপর (ঈমান ও মারেফাতের) নূর ছড়িয়ে দেন। যে ব্যক্তি সে নূর লাভ করেছে, সে হেদায়েত পেয়েছে, আর যে ব্যক্তি তা পায়নি সে গোমরা হয়েছে। (জামে তিরমিজী)উক্ত হাদীসে সত্যকে উপলব্ধি করার যোগ্যতা এবং তা কবুল করার তাওফীককে নূর বলা হয়েছে, যা স্পষ্টত অদৃশ্য নূর। মোট কথা ‘নূর’ শব্দটি আরবী ভাষায়-কুরআন ও হাদীসের পরিভাষায় ‘দৃশ্য নূর’ ও ‘অদৃশ্য নূর’ উভয় অর্থেই ব্যবহার হয়েছে। হাঁ কোথায় কোন অর্থে ব্যবহার হয়েছে তা শব্দের প্রয়োগ এবং পূর্বাপর প্রাসঙ্গিক বিষয় বস্তুর প্রতি লক্ষ করেই নির্ণয় করতে হবে। তাই যে স্থানে নূর শব্দ দ্বার অদৃশ্য নূর বুঝানো হয়েছে সেখানে বাহ্যিক বা দৃশ্য নূরের ব্যাখ্যা প্রদান করা  তদ্রুপ যেখানে বাহ্যিক বা দৃশ্য নূর বুঝানো হয়েছে সেখানে অদৃশ্য নূরের ব্যাখ্যা প্রদান করা একটি হাস্যকর ব্যাপার ও  তাহরীফ তথা অর্থগত বিকৃতিসাধন ছাড়া কিছু নয়। তাই আমরা এখন বলতে পারি যে আমাদেও নবী নূরের তৈরি নয়, বরং তিনি অন্যান্য নবী-রসূলগণের ন্যায় মানুষ ছিলেন।ফেরেশতা বা অন্য কোন প্রকার মাখলুক ছিলেন না। হাঁ কুরআন ও হাদীস শরীফে যেখানে রসূল ক্ষেত্রে নূও শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে সে খানে নূর দ্বারা অদৃশ্য নূর বুঝানো হয়েছে, কারণ তিনি নবুওতের নূর, রিসালতের নূর, ইলম ও মারেফাতের নূর, ঈমান ও খোদভীতির নূর,আল্লাহর মহব্বতের নূর, তেদায়েতের নূর, ইসলাামরে নূর দ্বারা ছিলেন ভরপুর। মোট কথা, আল্লাহ পাক আমাদের নবীকে সকল প্রকার অদৃশ্য নূর দান করেছিলেন, যা পৃথিবীর কাউকে দান করা হয়নি। সুতরাং আমাদের নবীর শরীর মোবারক ছিল মাটির তৈরী নূরের তৈরি নয়। আমাদের নবী ছিলেন মানুষ তাঁর শরীর ছিল মাটির তৈরি এব বিষয়ের উপর কুরআনে কিছু আয়াত হাদীস শরীফ তুলে ধরা হচ্ছে।
 রসূল (সা.) নূরের তৈরি না আমাদের মত মাটির মানুষ এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক বলেন:
لاهية قلوبهم وأسروا النجوى الذين ظلموا هل هاذآ إلا بشر مثلكم أفتأتون السحر وأنتم تبصرون (৩)
তাদের অন্তর থাকে খেলায় মত্ত। জালেমরা গোপনে পরামর্শ করে, সে তো তোমাদের মত একজন মানুষ; এমতাবস্থায় দেখে-শুনে তোমরা তার যাদুর কবলে কেন পড়?( সূরা-আম্বিয়া; ৩)
أو يكون لك بيت من زخرف أو ترقى في السماء ولن نؤمن لرقيك حتى تنزل علينا كتابا نقرؤه قل سبحان ربي هل كنت إلا بشرا رسولا (৯৩) وما منع الناس أن يؤمنوا إذ جاءهم الهدى إلا أن قالوا أبعث الله بشرا رسولا (৯৪) 
অথবা আপনার কোন সোনার তৈরি গৃহ হবে অথবা আপনি আকাশে আরোহণ করবেন এবং আমরা আপনার আকাশে আরোহণকে কখনও বিশ্বাস করবোনা, যে পর্যন্ত না আপনি অবতীর্ণ করেন আমাদের প্রতি এক গ্রন্থ, যা আমরা পাঠ করব।বলুনঃ পবিত্র মহান আমার পালন কর্তা, একজন মানব, একজন রসূল বৈ আমি কে?(৯৩)আল্লাহ কি মানুষকে পয়গম্বর করে পাঠিয়েছেন? তাদের এই উক্তিই মানুষকে ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে, যখন তাদের নিকট আসে হেদায়েত।(৯৪)
قل إنما أنا بشر مثلكم يوحى إلي أنما إلهكم إله واحد فمن كان يرجو لقاء ربه فليعمل عملا صالحا ولا يشرك بعبادة ربه أحدا


 (হ রসূল আপনি) বলুন আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ , আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে তোমাদরে ইলাহই এক মাত্র ইলাহ । অতএব, যে ব্যক্তি  তার পালন কর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালন এবাদতে কাউকে

قل إنما أنا بشر مثلكم يوحى إلي أنما إلهكم إله واحد فاستقيموا إليه واستغفروه وويل للمشركين (৬)
( হে নবী ) বনুন, আমি তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহি আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ। অতএব তাঁরই প্রতি একাগ্র হয়ে যাও এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরেকদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ (সূরা- হা-মীম সাজদা;৬)
وما جعلنا لبشر من قبلك الخلد أفإن مت فهم الخالدون
 আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরং  আপনার মৃত্য হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? (সূরা- আম্বিয়া;৩৮


শরীক না করে। (সূরা-কাহফ;১১০)

যে সকল নারীর সাথে দেখা সাক্ষাত করা বৈধ তাদের তালিকা নিুে দেয়া হল-



১. আপন মা এবং বিমাতা বা সৎমা
 (পিতার স্ত্রী)

২. নানী, নানীর মা এভাবে উর্ধ্বতন আত্মীয়গণ।
৩. দাদী, দাদীর মা এভাবে তদুর্ধ্ব মাগণ।
৪. কন্যা, দৌহিত্রী, প্রদৌহিত্রী তদ্রƒপ পোত্রী, প্রপোত্রী এভাবে তদনিু সকল স্তরের কন্যা।
 ৫. ভগ্নি (সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয়)
৬. ফুফু (আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয়)
৭. খালা  (আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয়)
 ৮. ভ্রাতুষ্পুত্রী (আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয়) অনুরূপ তাদের কন্যা ও তদনিু কন্যাগণ।
৯. বোনের কন্যা (ভাগ্নি) আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় অনুরূপ তাদের কন্যা ও তদনিু কন্যাবর্গ।
১০. দুধ মা,
১১.দুধ বোন।
১২. স্ত্রীর মাতৃবর্গ তথা স্ত্রীর মা (শাশুড়ি), নানী, তদুর্ধ্ব মাতাসমূহ। অনুরূপ স্ত্রীর দাদী ও তদুর্ধ্ব মাতাসমূহ।
১৩. স্ত্রীর কন্যা (পূর্বের স্বামী থেকে), কন্যার কন্যা ও তদনিু সকল কন্যা।
১৪. পুত্রের স্ত্রী, পৌত্রের স্ত্রী এবং তদনিু স্তরের সকল পৌত্রের স্ত্রীগণ। অনুরূপ দৌহিত্রের স্ত্রী এবং তদনিু স্তরের দৌহিত্রের স্ত্রীবর্গ। উপরোক্ত মহিলা আত্মীয়াগণ ছাড়া অন্যান্য মহিলা আত্মীয়া-অনাত্মীয়ার সাথে পর্দা করা জরুরি। যেমন চাচী, মামী, চাচাত, মামাত ও ফুফাত বোন, ভাতিজার বৌ, ভাগিনার বৌ, ভাবী, শ ইত্যাদি।
সূরা নিসা (৪) : ২৩;
আহকামুল কুরআন,জাসসাস ২/১৩২,১২৯; মাআরিফুল কুরআন ২/৩৫৮;

আননুতফা ফিল ফাতাওয়া ১৬৩;

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৩;

রদ্দুল মুহতার ৩/২৮




حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمْ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنْ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمْ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمْ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمْ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ



Sunday, May 7, 2017

গৃহে প্রবেশের সুন্নত তরীকা



হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।  (সূরা আন-নূর- আয়াত; ২৮)



উক্ত আয়াতের ব্যাপকতা থেকে জানা গেল যে, অন্য কারও গৃহে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি নেয়ার বিধানে নারী, পুরুষ, মাহরাম ও গায়র-মাহরাম সবাই শামিল রয়েছে এবং সবার জন্যেই অনুমতি চাওয়া ওয়াজিব!

গৃহে প্রবেশের সুন্নত তরীকা,
প্রথমে বাইরে থেকে সালাম করবে,  (   السلام عليكم ورحمة الله)এরপর নিজের নাম নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নিবে।
ইমাম বুখারী রহ.আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন যে,

যে ব্যক্তি প্রথমে অনুমতি চায়, তাকে অনুমতি দিও না। কারণ, সে সুন্নত তরীকা ত্যাগ করেছে।       অর্থাৎ, সে আগে সালাম না দিয়ে অনুমতি চেয়েছে।

( মাআরেফুল-ক্বোরআন)










গুসল ফরজ হয় কখন?




খাহেসের সাথে, উত্তেজনার সাথে বীর্যক্ষরণ হলে, বীর্য বের হলে গুসল ফরজ হয়, চাই পুরুষের হোক বা মহিলার, ঘুমন্ত অবস্থায় হোক বা জাগ্রত অবস্থায়
সহবাসে, চাই নিজ স্ত্রীর সাথে হোক বা অবৈধ পন্থায় হোক, বীর্য  বের হোক অথবা না হোক
নারীর নির্ধারীত গুসল
যখন ঋতুস্রাবের রক্তপাত শেষ হয়ে যাবে, তখন নারীকে নামাজ বা যে কাজ গুলির জন্য পবিত্র থাকা আবশ্যক সে গুলি আঞ্জাম দেয়ার জন্য তার গুসল করা ফরজ
রক্তপাত ৩ দিনের কম হবেনা, অতএব যদি তিন দিনের আগে শেষ হয়ে যায়, তবে তা ঋতুস্রাবের রক্ত নয় বরং এটা এসতেহাযার রক্ত
এবং দশ দিনের বেশিও থাকবেনা, অতএব যদি দশ দিনের বেশি থাকে তাহলে দশ দিনের পর থেকে সে গুলো এসতেহাযার রক্ত বলে গণ্য হবে
নিফাসের পর গুসল করা ফরজ, সন্তান প্রসাবের পর যে রক্ত বের হয় তাকে নিফাস বলেনিফাসের নিম্মতম কোন সময়সীমা নেই, তবে উর্ধতম সময়সীমা হচ্ছে চল্লিশ দিনআর এর অতিরিক্ত যা হবে তা ইসতিহাজা হিসেবে গণ্য হবেযদি কোন নারীর চল্লিশ দিনের বেশী স্রাব অতিক্রম করে অথবা এ নারী এর পূর্বেও সন্তান প্রসব করেছে এবং পূর্বের প্রসবে তার একটি নির্দিষ্ট সময়ের অভ্যাস ছিল, তবে তার অভ্যাসের দিনগুলোর দিকে নিফাসের মুদ্দতকে ফিরাতে হবেআর যদি তার নির্ধরিত অভ্যাস না থাকে, তবে তার নিফাস চল্লিশ দিন ধরতে হবেমহিলারা সন্তান প্রসবের পূর্বে  যে রক্ত দেখবে তাকে ইসতেহাজা বলা হয়
ইসতিহাজা
পাঁচ প্রকারের রক্তকে ইসতিহাজা  বলা হয়
১.         যে রক্ত নয় বছরের কম বয়স্কা বালিকার প্রবাহিত হয়
২.         যে রক্ত দশ দিনের বেশী সময় ধরে প্রবাহিত হয়
৩.         যে রক্ত তিন দিনের কম সময় ধরে প্রবাহিত হয়
১.         যে রক্ত গর্ভাবস্থায় প্রবাহিত হয়
২.         যে রক্ত প্রসাবান্তে চল্লিশ দিনের বেশী সময় ধরে প্রবাহিত হয়
ইসতিহাজা, নাকসির এবং আঘাত হতে সর্বদা রক্ত ঝরা ব্যক্তির হুকুম
কারো নাক বা অন্য কোন যখম হতে অবিরাম রক্ত ঝরে  অথবা ফোটায় ফোটায় প্রস্রাব পরে এবং এতটুকু সময়ের জন্যেও বন্ধ হয় না, যতটুকু সময়ের মধ্যে সে অযূ করে নামাজ পড়তে পারবে
শরীয়তের পরিভাষায় এমন ব্যক্তিদের মাযূর বলেএমন ব্যক্তির শরীয়তের বিধান হলো, প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তের জন্যে একবার অযূ করে নিবেএবং যতক্ষণ এ নামাজের সময় থাকবে ততক্ষণ তার অযূ থাকবে
উল্লেখ থাকে যে, যে কারণে সে মাযূর হয়েছে সেই কারণ ছাড়া অন্য কোন কারণ যদি দেখা দেয়, যার দ্বারা অযূ ভেঙ্গে যায় তাহলে আর অযূ থাকবে না
নতুন করে অযূ করতে হবেযেমন- এক ব্যক্তির নাক দিয়ে অনর্গল রক্ত ঝরছেএখন সে জোহর নামাজের জন্য অযূ করলতাহলে যতক্ষণ  যোহর নামাজের সময় থাকবে ততক্ষণ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণে অযূ ভাঙ্গবে না
কিন্তু যদি এই সময়ের মধ্যে সে প্রস্রাব বা পায়খানা করে থাকে অথবা সূচবিদ্ধ হয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে তাহলে অযূ ভেঙ্গে যাবে
যদি এমন কিছু না হয় তাহলে দ্বিতীয় নামাজের সময় হলেই দ্বিতীয় নামাজের জন্য নতুন অযূ করতে হবেপূর্বের অযূ শেষতবে প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে যে অযূ করা হবে তার দ্বারা ফরয,নফল যা খুশি যত খুশি নামাজ-ইবাদত করতে পারবে
ফরজ গুসল যেভাবে করবেন
গুসলের পূর্বে  কব্জি পর্যন্ত উভয় হাত ধুয়ে নিতে হবেতারপর নাপাক থাক বা
না থাক হাত এবং ইসতিঞ্জার জায়গাটা ধুয়ে নিতে হবে, তারপর শরীরে কোথাও নাপাক থাকলে সেটাও সাফ করে নিতে হবেযদি কোন চৌকি ওথবা উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে গুসল করে তাহলে প্রথমে অযূ করার সময়  পা দুটোও ধুয়ে নিবেআর যদি এমন জায়গা না হয় বরং পা ধুলে আবার পা নাপাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে পা ধুবে না, পা পরে ধুয়ে নিবেওযূ শেষ করার পর প্রথমে তিনবার মাথায় পানি ঢালতে হবেএরপর তিনবার ডান কাঁধের উপর পানি ঢালতে হবে তারপর তিনবার বাম কাঁধের উপর
এভাবে সমস্ত শরীরের উপর পানি ভাসিয়ে দিবে
উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী গুসল করা সুন্নততবে গুসলের মধ্যে এমন কিছু বিষয় আছে যা ফরজযে গুলো আদায় করা অত্যাবশ্যকীয়এর একটিও সামান্য শুকনো থাকলে গুসল হবে না
গুসলের ফরজ ৩টি
১. এমনভাবে কুলি করা যাতে সমস্ত মুখের ভিতর পানি পৌছে যায়
২. নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌছানো
৩. শরীরের উপর পানি ভাসানো
গুসলের সময় যদি চুল বেনী করা থাকে তাহলে চুল ভেজাতে হবেনা, তবে প্রতিটি চুলের গোড়ায় পানি পৌছাতে হবেআর যদি চুল বেনী করা না হয়, তা হলে প্রতিটি চুল ও চুলের গোড়া ধোয়া ফরজযদি একটি মাত্র চুলের গোড়াও শুকনো থাকে তাহেল গুসল হবে নাআর যদি বেনী খোলা ছাড়া চুলে গোড়ায় পানি না পৌছে তাহলে বেনী খুলে চুল ও চুলের গোড়ায় পানি পৌছানো ওয়াজিবযদি নাকে নথ, বালি এবং হাতে আংটি থাকে তাহলে সেগুলো ভাল ভাবে নেড়ে-চেড়ে নিবেযেন এগুলোর নিচে ভাল ভাবে পানি পৌছে যায়এমনিভাবে যদি নখের মধ্যে আটা ইত্যাদি লেগে থাকে, যার কারণে পানি পৌছবে না, তাহলে আটা ইত্যাদি বের করে পানি পৌছানো ব্যতীত গুসল হবে নাকারো নাভির গভীরতা যদি বেশী হয়, তাহলে নাভির গভীরে ভাল ভাবে পানি পৌছানো ব্যতীত গুসল হবে না
সারকথা, গুসলে যে সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়া ফরজ, সে সমস্ত অঙ্গের যদি এক চুল পরিামাণ জায়গাও ভেজা বাদ থাকে তাহলে গুসল হবে না, চাই এই জায়গা গুলো এমনে ধোয়া থেকে বাদ পরুক অথবা শরীরে চর্বি, গাম, নেলপালিশ ইত্যাদি থাকার কারণে বাদ পরুক
নদী-পুকুর খাল-বিলের প্রবহমান পানিতে যদি ফরজ গুসল করে তাহলে কাপড়-চোপড় এমন ভাবে ধুয়ে নিবে যেন কাপড়ে কোন প্রকার নাপাক না থাকেনাপাক দূর করার জন্যে যতবার দরকার ততবার ধুতে হবেআর যদি বাড়িতে, টিউবয়েলে অথবা টেপের পানিতে গুসল করে তাহলে প্রথমেই কাপড় বালতিতে রাখবে না, প্রথমে টিউবয়েল বা টেপের মুখের নিচে রেখে ভালভাবে নাপাকি দূর করে নিবে এবং ভালভাবে চিপে নিংড়িয়ে নিবে (কমপক্ষে ৩ বার) এভাবে তিনবার নিংড়িয়ে নিলে পাক হয়ে যাবে
আর যদি কেউ নাপাক কাপড় বালতিতে ধোয়, তাহলে ধোয়ার পর বালতির পানি ফেলে দিবে এবং নতুন পানি দ্বারা বালতি ধুয়ে নিংড়িয়ে নিবে
যদি কেউ এমন না করে, বরং উক্ত নাপাক পানি ফেলে দিয়ে আবার পানি নিয়ে কাপর ধোয় শুরু করে তাহলে কাপড় নাপাকিই থেকে যাবেএ বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা দরকার
উত্তম পন্থা
স্বামী-স্ত্রী রাতের জন্য বিশেষ একটি পোষাক রাখবে যা তারা বিশেষ মুহুর্তে ব্যবহার করবে এবং গুসলের পুর্বে সে গুলো খুলে রেখে তাদের সাধারণ পোষাক পরে গুসল করবেএমন পন্থা অবলম্বন করলে আশা করা যায় বাসা-বাড়িতে বালতিতে গুসল করলে সন্দেহাতীত ভাবে পবিত্রতা অর্জন হবে
তবে আবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যেন এই সাধারণ কাপড়ে নাপাকী না নাগেবীর্য বের হওয়ার সাথে সাথে যদি কেউ গুসল করতে চায় তাহলে অবশ্যই তাকে পেশাব করে নিতে হবেঅন্যথায় গুসল করলে পবিত্রতা অর্জন হবে নাআর যদি বীর্য বের হওয়ার এক ঘন্টা বা দেড় ঘন্টা পর গুসল করে তাহলে পেশাব না করলেও সারবে

জালেমের শাস্তি ............................





জুলুম-নির্যাতনে ফল কি? তা যদি কেউ আপনার কাছে জানতে চায় তাহলে কি উত্তর দিবেন? তাকে ফিরাউনের নীল নদে সলিলসমাধির ঘটনাটি পড়তে বলবেনআর মিসরের কায়রো যাদুঘরে ফিরাউনের যে লাশটা রাখা আছে, তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে একবার দেখে নিতে বলবেনএখানেই শেষ নয়! তাকে বলবেন, জালেমের দিকে জুলুমের ভয়াবহ শাস্তি বাঁধভাঙ্গা বন্যার ন্যায় ছুটে  আসছেইতিহাস চিৎকার করে বার বার এ-কথাই বলছে যে, তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্র্রহণ কর এবং জালেম কে যুগেযুগে আল্লাহ পাক কি শাস্তি দিয়েছেন, তা অন্তরদৃষ্টি দিয়ে অবলোকন কর
 এমর্মে একটি ঘটনা আমি উল্লেখ করছি শিক্ষা গ্রনণের জন্য
 আল-মাজালিস নামক কিতাবে যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন  আমার পাশে এক ব্যক্তি বসা ছিলতার ডান হাত গোড়া থেকে কাটাহঠাৎ করে সে চিৎকার করে বলে উঠলঃ আমার এ অবস্থা যে ব্যক্তি দেখতেছে সে যেন কারও প্রতি জুলুম ও অত্যাচার না করে
 আমি তাকে বললাম তোমার ঘটনা কি? সে বললঃ একদা আমি সমুদ্রোপকুলে যাচ্ছিলামআমি এক হাবশির পাশ দিয়ে গমন করছিলামসে সাতটি মাছ শিকার করেছিলএকটি মাছ আমাকে দিয়ে দেয়ার জন্য বললে সে তা দিতে অস্বীকার করেআমি জোর করে তার কাছ থেকে একটি মাছ ছিনিয়ে নিলামজোর পূর্বক নেয়া মাছটি ছিল জ্যান্তহঠাৎ করে মাছটি আমার আঙ্গুলে কামড় বসিয়ে দিলএতে আমার আঙ্গুলে সামান্য একটু খুজলী হলএতে আমার কোন কষ্টও হল নামাছটি নিয়ে আমি বাড়ীতে পৌছলামগৃহিনী মাছটি রান্না করলে আমরা সবাই তা খেলামতার পর আস্তে আস্তে আমার খুজলির স্থানে ঘা হয়ে সেখানে পোকা হয়ে গেলসমস্ত ডাক্তারদের সিদ্ধান্ত মতে আমার সে আঙ্গুলটি কেটে ফেললামভাবলাম বোধ হয় সুস্থ হয়ে গেছিকিন্ত না; কিছু দিন যেতে না যেতেই আমার হাতে আবার পোকা হয়ে গেলতার পর আবার অপারেশন করে সামান্য কেটে ফেলা হলএভাবে কাটতে কাটতে হাতের গোড় পর্যন্ত এলএ জন্য আমি সর্বদা চিৎকার করে এ কথাই বলি যে, যারা আমাকে দেখতেছে; তারা যেন কার উপর জুলুন-অত্যাচার না করেএ ঘটনা থেকে জালেম ও স্বৈরাচারীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে যে, জুলুমের শাস্তি তাকে কিভাবে গ্রাস করে নেয় । এবং জালেম পৃথিবী থেকে চলে গেলেও সে যে শাস্তিতে গ্রেফতার হয়েছিলো তা পরবর্তীদের জন্য শিক্ষামূলক ইতিহাস হয়ে থাকে। যা থেকে পরবর্তী যুগের মানুষেরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
মহান আল্লাহ পাক আমদের এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাওফীক দান করেনআমীন  

শবে বরাত- কিছু ভ্রান্তি নিরসন..

........................................ (শবে বরাত কোথায় আর আমরা কোথায়!) ....................................................... ইস...

Clock